২২ অক্টোবর ২০২৬ , ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

রেফারির সমালোচনা করে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ মিশর কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
আপলোড সময় : ২১-১০-২০২৬
রেফারির সমালোচনা করে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ মিশর কোচ ছবিঃ সংগৃহীত

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করায় শাস্তির মুখে পড়েছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তাঁকে তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা। একই ঘটনায় মিশরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকোকে পাঁচ ম্যাচ এবং দলের ম্যানেজার ইব্রাহিম হাসানকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি এই শাস্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত কারণ ও সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা জানতে ফিফার কাছে আবেদন করেছে ইএফএ। শাস্তির আইনি দিক পর্যালোচনা করে আপিল করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

এই নিষেধাজ্ঞার কারণে আগামী নভেম্বরে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বাছাইপর্বে মালাউইয়ের বিপক্ষে মিশরের ম্যাচগুলোতে হোসাম ও ইব্রাহিমকে পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতির প্রথম ম্যাচেও তাঁদের অনুপস্থিত থাকতে হতে পারে। অন্যদিকে, পাঁচ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় জুন মাস পর্যন্ত মাঠের বাইরে থাকতে পারেন জিকো।

গত ৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল মিশর। ম্যাচে একপর্যায়ে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় আফ্রিকার দলটি। শেষ দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচে জিকোর একটি গোল বাতিল এবং শেষ দিকে পেনাল্টির আবেদন নাকচ হওয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল মিশর। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জিকোর একটি গোল বাতিল করে ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর)। আক্রমণের আগের পর্যায়ে আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের ওপর ফাউল হয়েছিল বলে গোলটি বাতিল করা হয়। পরে জিকোই ব্যবধান ২-০ করেন। তবে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর গোলে ম্যাচে ফেরে আর্জেন্টিনা। এরপর লিওনেল মেসির গোলে সমতা ফেরানোর পর এনজো ফার্নান্দেজের গোলে জয় নিশ্চিত করে দলটি।

আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে মিশরের হামদি ফাথির সঙ্গে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের ধাক্কাধাক্কি ও টানাটানির ঘটনায় পেনাল্টি পাওয়া উচিত ছিল বলে মনে করে মিশর। কিন্তু রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেননি। মিশরের অভিযোগ, ঘটনাটি ভিএআরের মাধ্যমেও পর্যালোচনা করা হয়নি।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেন হোসাম হাসান। তাঁর দাবি, ম্যাচে মিশর অন্যায়ের শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্য বলে বিষয়টি হালকাভাবে নিতে চাই না। আজ আমাদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে, আমরা অবিচারের শিকার হয়েছি।’

ম্যাচ চলাকালে মিশরের কোচিং স্টাফের একজন সদস্যকে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের পর লাল কার্ডও দেখানো হয়েছিল। অন্যদিকে, রেফারিং নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ফিফার রেফারিং বিভাগের প্রধান পিয়েরলুইজি কোলিনা দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের পক্ষে অবস্থান নেন। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের অভিযোগ রেফারি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হুমকির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ফিফার নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। ফলে শাস্তির মেয়াদ ও এর প্রভাব নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে মিশরীয় দলকে।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ